মৌলিকত্ব হারাচ্ছে পুরুলিয়ার দেওয়াল চিত্র
কল্পোত্তম
পুরুলিয়ার দেওয়াল চিত্রের মূল বৈশিষ্ট্যই হলো এর ক্ষণস্থায়ীত্ব। দেওয়াল চিত্র অঙ্কনের পর বৃষ্টি না আসা পর্যন্তই পূর্ণরূপে স্থায়ীত্ব লাভ করে এরা। তাই পুরুলিয়ার দেওয়াল চিত্রের পূর্ণ রূপদর্শন করার প্রকৃষ্ট সময় হলো সেগুলি আঁকার পর প্রথম বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত সময়কাল। সেই সময় কালের পরে দর্শন করার অর্থই হলো দেওয়াল চিত্রের অপরিপূর্ণ রূপদর্শন লাভ।
পুরুলিয়ার দেওয়াল চিত্রের যে ধারা তা মাটির বাড়িকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে। মাটির বাড়ির দেওয়ালের উপর নিপুণভাবে আঁকা হয়ে থাকে এইসব চারুকলা।
সহজ স্বাভাবিক প্রাকৃতিক বিষয়বস্তুকে মূল উপজীব্য বিষয় হিসেবে নিয়ে প্রাঞ্জলভাবে চিত্রকলাগুলিকে রূপ দিয়ে থাকেন বাড়ির মেয়ে ও মহিলারা। দেওয়াল চিত্র অঙ্কন তাদের পেশা নয়, আবার নেশাও নয়। নিজের মাটির ঘরকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে তোলার আনন্দ থেকেই এই কাজ করে থাকেন।
দেওয়াল চিত্রের বিষয়বস্তুর মতো এর উপকরণও খুঁজতে হয় না তাঁদের। নিজেদের পরিবেশের চারপাশের উপকরণ নিয়েই সুন্দরভাবে সাজিয়ে তোলেন দেওয়ালকে। সেইসব উপকরণের ছোঁয়াতেই মনোলোভা হয়ে ওঠে দেওয়াল।
পুরুলিয়ার দেওয়াল চিত্রের ভৌগোলিক সীমানা ছড়িয়ে রয়েছে পুরুলিয়ার বাইরেও। অর্থাৎ পূর্বতন মানভূম জেলার সমগ্র অঞ্চল এবং এর লাগোয়া বাঁকুড়া, বীরভূম, মেদিনীপুর ও পশ্চিম বর্ধমানেও এর বিস্তার পরিলক্ষিত হয়। তবে এর মূল ধারা প্রবাহিত হয়েছে পুরুলিয়াকে কেন্দ্র করেই। তাই এই সমগ্র অঞ্চলকেই বাংলার দেওয়াল চিত্রের পীঠস্থান বলা যায়।
পুরুলিয়া এবং তার সংলগ্ন ভৌগোলিক পরিমন্ডলে দেওয়াল চিত্র অঙ্কনের মূল কারণ হলো নিজের মাটির তৈরি বাসাবাড়িকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও সুশোভন করে তোলা। কিন্তু গোবর বা মাটি সহকারে লাতা দিয়ে ঘরের মেঝে ও আঙিনা লেপন করার মতো সপ্তাহে, এমনকি মাসেও দেওয়াল চিত্র অঙ্কন করা সম্ভবপর নয়। তাই পূর্ণ বাড়ি অলঙ্করণ করা হয় বছরে একবারই। তবে বিশেষ কিছু উৎসব অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বাড়ির ভেতরাংশে দ্বিতীয়বারও অলঙ্করণ করা হয়ে থাকে।
পুরুলিয়ার দেওয়াল চিত্র আঁকা হয় মাটির দেওয়ালে। তাই স্বাভাবিক কারণেই তাকে দীর্ঘস্থায়ী করে তোলার জন্য বর্ষা পরবর্তী সময়কালকে নির্বাচন করা হয়ে থাকে। কারণ, সেই সময় কালের পর বৃষ্টি আর খুব একটা হয় না এবং দেওয়াল চিত্র নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে না। কষ্ট করে অঙ্কন করা দেওয়াল চিত্র স্থায়ীত্ব লাভ করে সর্বাধিক সময়কাল। 
আষাঢ় শ্রাবণ মাস ভরা বর্ষার সময় হলেও বর্ষা পরবর্তী ভাদ্র আশ্বিন মাসেও কিছু কিছু বর্ষার প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। কিন্তু দুর্গা পূজার পর থেকে বৃষ্টির সম্ভাবনা খুব একটা থাকে না। এমনকি এই উৎসবের পরবর্তী উৎসব কালীপূজা, বাঁদনা পরব, কাড়া খুঁটা হলো এই অঞ্চলের লোক উৎসব। এখানকার প্রায় সকল সম্প্রদায়ের মানুষ এই উৎসব পালন করে আসছেন জন্মলগ্ন থেকে। তাই এই সময় মাটির বাড়ির পাঁচিলকে মাটির নতুন প্রলেপ দিয়ে ঠিকঠাক করা হয়। এবং সেই মসৃণ দেওয়ালের উপর সযত্নে আঁকা হয় দেওয়াল চিত্র। এতে একদিকে যেমন লোক উৎসব পালন করার ক্ষেত্রে আলাদা একটা মাত্রা যোগ হয়, অন্যদিকে পুনরায় বর্ষা না আসা পর্যন্ত সুন্দরভাবে সাজিয়ে তোলা দেয়ালচিত্র নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে না।
পুরুলিয়ার দেওয়াল চিত্র অঙ্কনের ক্ষেত্রে সহজলভ্য মাটিকেই বেছে নিয়েছেন এখানকার খেটে খাওয়া মানুষজন। নিজের গ্রাম বা পাশের গ্রামে যে সকল রঙিন মাটি পাওয়া যায় সেই সব মাটি সংগ্রহ করে কাজে লাগান তাঁরা।
আগে রঙিন মাটির ব্যবহার খুব একটা ছিল না। লাগানো ধানক্ষেতের উপর যে মাটির স্তর পড়ে সেই স্তর চেঁচে নিয়ে এসে লাগানো হতো দেওয়াল চিত্র নির্মাণের কাজে। এই মাটি দেখতে অনেকটা হরিদ্রাভ ও সাদাটে। তাই এর স্থানীয় নাম "দুধেমাটি"। কোথাও কোথাও (কুড়মি অধ্যুষিত অঞ্চল গুলিতে) আবার "ছঁছ" মাটিও বলা হয়। সে সময় মেঝে এবং মেঝে থেকে এক ফুট উঁচু পর্যন্ত দেওয়ালের গায়ে খড় পুড়িয়ে তৈরি করা কালি গোবরের সঙ্গে মিশিয়ে লেপন দেওয়া হতো। আর উপরের অংশে দুধেমাটির প্রলেপ দিয়ে আঁকা হতো দেওয়াল চিত্র।
পরবর্তী ক্ষেত্রে রঙিন মাটির ব্যবহার শুরু হয়। বিশেষ করে লাল মাটি এবং গেরোয়া বা গেরু মাটির। যাকে কেউ কেউ গিরিমাটি বলেও উল্লেখ করেন কোথাও কোথাও। এই দু'তিন প্রকার মাটি এবং খড় পোড়ানো কালির ব্যবহার হওয়ার সময় থেকেই বিভিন্ন জ্যামিতিক চিত্র বিশিষ্ট দেওয়াল চিত্রের উদ্ভাবন ঘটে। তারপর শুরু হয় নীল, হলুদ, খয়েরী, সাদা মাটি এবং সুতির কাপড়ে দেওয়া নীল ও আলতা রঙের ব্যবহার। কোথাও কোথাও ব্যবহৃর হতে থাকে সিম পাতা বেটে তৈরি করা সবুজ রঙের।
এইসময় পুরুলিয়ার দেওয়াল চিত্র একটা উৎকর্ষের শীর্ষ জায়গায় গিয়ে পৌঁছায়। যাকে বলে দেওয়াল চিত্রের চূড়ান্ত পর্যায় বা স্বর্ণযুগ।
দেওয়াল চিত্র অঙ্কনের পদ্ধতি সম্পর্কে বলতে গেলে মাটির তৈরি দেওয়াল মসৃণ করার কৌশল সম্পর্কে বলা অত্যন্ত আবশ্যক।
বর্ষার জলে ধুয়ে যাওয়া দেওয়ালের যে অংশে বেশি পরিমাণ মাটির প্রয়োজন হয় সেখানে প্রথমে দেওয়া হয় ঘাসমাটি। সেটা অনেকাংশে শুকিয়ে গেলে দেওয়া হয় গুছ্যাতি মাটি। ঘাস যুক্ত জমির ঘাস কোদাল দিয়ে চেঁচে ফেলে ভূপৃষ্ঠ থেকে আট ইঞ্চি গভীর পর্যন্ত মাটির স্তর থেকে নেওয়া মাটিকে গুছ্যাতি মাটি বলে। এর সাথে গোবর মিশিয়ে প্রলেপ দেওয়া হয়। যাতে প্রলেপ দেওয়ার পর মাটি ফেটে না যায়। তারপর পাতলা প্রলেপ দেওয়া হয় দুধেমাটি বা ছঁছ মাটির। দ্বিতীয় এবং তৃতীয়বার লেপন দেওয়ার সময় দেওয়ালকে মসৃণ করার জন্য নড়া দিয়ে ঘষা হয় অথবা চিহড় লতার ফলের বাকড়কে আগের দিন থেকে জলে ভিজিয়ে রেখে নরম করে তা দিয়ে বার বার বাকড়ানো (ঘষা) হয়। এরপর পাঁচিলের যে অংশে রং দেওয়া হবে তার ওপরের অংশে ন্যাকড়ার সাহায্যে দুধেমাটির লাতা দেওয়া হয়। এবং সেই অংশ শুকিয়ে যাওয়ার আগেই ন্যাকড়ার ভেতর আঙুল রেখে চিত্রগুলো আঁকা হয়। যাতে আঙুলের ডোগাগুলো খয়ে না যায়। বাকি পড়ে থাকা নীচের অংশে প্রথমে গোবরের লাতা বোলানো হয় এবং শুকিয়ে যাওয়ার পর রং দিয়ে চিত্র আঁকা হয়।
মূলত জ্যামিতিক আকারে এক একটা অংশ কেটে তার ভেতর আঁকা হয় বিভিন্ন ধরনের চিত্র। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সেগুলো হয় বর্গাকার, আয়তাকার বা ত্রিভুজাকার। দেওয়ালের উপরাংশে (যে বাড়িতে রং দেওয়া হয় না তার নীচেরাংশেও) এবং ঘরের ভিতরের সদরাংশগুলিতে কেবলমাত্র ছঁছ মাটির উপর চিত্রাঙ্কন করা হয়। বিশেষ করে বিভিন্ন ধরনের লতাপাতা, ফুল, পাখি, গাছ, মানুষ, পশু ইত্যাদি। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো পদ্ম। একটা বৃত্তের পরিধিতে নীচের দিকের যে কোনাে একটা বিন্দুকে কেন্দ্র করে পাপড়িগুলো আঁকা হয়। তারপর পদ্মের পাপড়িগুলি রঙ দিয়ে করে তোলা হয় রঙিন। কখনাে কখনাে টব বা কলস থেকে ফুলের গাছটি উঠে আসছে এবং দু-পাশে শাখা বিস্তার করে ফুল ফুটছে এমনটাও দেখা যায়। তবে, বিশেষ করে রাস্তার পাশের দেওয়াল, যেটাতে সকলের দৃষ্টি পড়ে সেই দেওয়ালেই রঙের ব্যবহার বেশি করে হয়ে থাকে।
ফুলের মধ্যে পদ্মের ব্যবহার সব থেকে বেশি লক্ষ্য করা যায়। ফলে পদ্মকে মানভূমী দেওয়াল চিত্রের প্রতীক বলা হয়। এর পাশাপাশি অপর যে বিষয়টিকে বেশি করে দেখা যায় তা হলাে ‘মােরগঝুঁটি। এটিও খুবই জনপ্রিয় এবং বিশেষত্বপূর্ণ। যখন মােরগঝুঁটিকে চিত্রের মধ্যে স্থাপন করে অন্যান্য লতাপাতার শাখা সংযুক্ত করা হয় তখন তাকে মােরগঝুঁটির ঝাড় বা মুরগা ঝাড় বলে। কোথাও কোথাও উদীয়মান সূর্যের নকশাও দেখা যায়। তার ফাঁকে ফাঁকে উঠে আসে একটি করে আধফোটা পদ্ম। এর বাইরের শূন্যস্থানে বসানাে হয় নানারকমের ছােটো ছােটো বিষয়। যেমন পদ্ম, চিড়িতন, ইস্কাবন, হরতনের চিহ্ন ও সাধারণ লতাপাতা, পাখি, ময়ূর ইত্যাদি। এইসব ছবিও লাল, নীল, সাদা, গেরুয়া ইত্যাদি বিচিত্র বর্ণের সমাবেশে আঁকা হয়, আবার কখনো কখনো আঁকা হয় বর্ণ ছাড়াও । এছাড়াও খেজুর গাছ, নানা রকম আলপনা, দুই থেকে তিন লাইনের সমদূরত্বে বিচিত্র গমণ উল্লেখযোগ্য।
অপরদিকে দেওয়ালের পাঁচ ছয় ফুট উঁচু পর্যন্ত অংশে বেশি করে রঙের ব্যবহার দেখা যায়। এই অংশে জ্যামিতিক আকৃতির সমারোহই সবথেকে বেশি। পুরো দেওয়ালকে বেশ কয়েকটা জ্যামিতিক আকারে, ত্রিভুজ অথবা চতুর্ভুজে বিভক্ত করে নেওয়া হয়। তারপর তাদের দু'পাশে এবং উপরে বিভিন্ন রং দিয়ে শাড়ির পাড়ের মতো করে তিন চারটা পাড় দেওয়া হয় সমান্তরালভাবে। এবং মাঝখানের অংশকে অন্য একটা রং দিয়ে ভরাট করা হয়। কখনো কখনো ত্রিভুজের ভিতর ত্রিভুজ বা চতুর্ভুজের ভিতর চতুর্ভুজের সমারোহ পরিলক্ষিত হয়। একেবারে নিচের অংশ অর্থাৎ ঘরের বেদীতে দেওয়া হয় কালো রং যা মেঝের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সুবিস্তৃত মানভূম ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকাতে সাঁওতাল, হাে, কুড়মী, ভূমিজ, খেড়িয়া, মুন্ডা, ওঁরাও, শবর, কোল, বীরহড় প্রভৃতি সকল জনজাতির মধ্যেই দেওয়াল চিত্র অঙ্কনের প্রচলন রয়েছে। তবে সুনিপুণ মাটির ঘর তৈরি ও দেওয়াল চিত্র অঙ্কনের ক্ষেত্রে সাঁওতালরাই অগ্ৰগণ্য। এদের দেওয়াল চিত্রের মধ্যে কখনও দায়সারা ভাব দেখা যায় না। সমস্ত কাজের ফাঁকে সময় বের করে সুনিপুণভাবে দেওয়াল চিত্র অঙ্কন করে থাকেন এঁরা। অন্যদিকে লালচে লোহা পাথর বা লৌহ আকরিক বা গিরিমাটি ঘষে তৈরি করা গৈরিক বর্ণে গিরিফল চুবিয়ে গৃহদ্বারের শীর্ষে ও দু'পাশে ছাপ দেওয়া, কালী পূজার সময় গরু খুঁটা আর বাঁদনা পরবের দিনগুলোতে চালের গুঁড়ি দিয়ে সারা উঠোনে আলপনা দেওয়া বাংলার কৃষিজীবী সমাজে প্রায় সর্বত্রই দেখা যায়। সাঁওতাল ভূমিজ, মাহাত বা কুড়মী, বাউরি, শবর ইত্যাদি গােষ্ঠীগুলি এগুলোকে রীতি হিসেবে মেনে চলেন।
বর্তমানে পুরুলিয়ার দেওয়াল চিত্রের প্রবহমান ধারায় আমূল পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উপকরণগত এবং বিষয়গত এই পরিবর্তন দেওয়াল চিত্রের ধারাকে শেকড়হীন করে তুলছে ক্রমশ। দেওয়াল চিত্রের সঙ্গে মহিলাদের যে গভীর সম্পর্ক ছিল, তাও আলগা হয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে।
মাইক্রো টেকনোলজির চরম পর্যায়ে এসে সামান্য সহজলভ্য সুনামের লোভে নিজেদের মূলধারা থেকে বেরিয়ে এসে চাকচিক্য চিত্রের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন মানুষ। যার ফলে একদিকে যেমন দেশীয় রীতিনীতি ও বিষয় আসয়গুলো হারিয়ে যাচ্ছে তেমনি দেশীয় উপকরণের ব্যবহারও কমে আসছে। দেওয়াল চিত্র অঙ্কনের জন্য মাটির পরিবর্তে ব্যবহৃত হচ্ছে রাসায়নিক রং। মহিলাদের বদলে দেওয়াল চিত্র আঁকছেন পুরুষরা। আঁকা হচ্ছে ইন্টারনেট থেকে পাওয়া চিত্রের অনুকরণে। ফলে সাঁওতাল বাড়ির দেওয়াল চিত্রে দেখা যাচ্ছে চলন্ত ট্রেন।
মাটির ঘরের দেওয়াল চিত্রে মাটির গন্ধ নেই এখন। ক্রমাগতই মৌলিকত্ব হারিয়ে ফেলছে পুরুলিয়ার দেওয়াল চিত্র। এই প্রভাব আটকানো না গেলে, পুরুলিয়ার দেওয়াল চিত্রে পুরুলিয়ার ছাপ থাকবে না একসময়।
উত্তম মাহাত, জন্ম ১৯৮৩ সালের ২ জানুয়ারী পুরুলিয়া জেলার বলরামপুর থানার অন্তর্গত বেড়াদা গ্রামে। ২০০৩ সাল থেকে উত্তম মাহাত নামে লেখালেখি করে এলেও ২০০৬ সালের পর থেকে কল্পোত্তম নামেই লেখালেখি বা আঁকাআঁকি করে থাকেন । পেশায় রাজমিস্ত্রি উত্তম মাহাত ইতিমধ্যেই "সাতরঙা পাড়" নামে একটি কাব্যগ্রন্থ, "রিঝে রঙে"; নামে একটি ঝুমুর সঙ্গীতের বই, "পেইন্টেড ট্রেন" নামে একটি উপন্যাস ও "স্বপ্নসিঁড়ি" নামে একটি গল্পগ্রন্থ প্রকাশ করেছেন এবং খুব শীঘ্রই প্রকাশ করতে চলেছেন দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ "বত্রিশ নম্বর জাতীয় সড়ক"।
লেখালেখির সাথে সাথে ছবি আঁকা, কাঠ ও সিমেন্টের আর্ট ওয়ার্ক করতেও ভালো বাসেন তিনি।


0 মন্তব্যসমূহ